Header Ads

Header ADS

My Bangladesh map

উপমহাদেশে ইসলামের আবির্ভাব

 ইসলাম ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় বহুল-প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস। জনসংখ্যার বিচারে ভারতে মুসলমানদের স্থান হিন্দুদের ঠিক পরেই। ভারতের জনসংখ্যার মোট ১৩.৪ শতাংশ মুসলমান। দেশের মুসলমান জনসংখ্যা ২০০১ সালের জনগণনা অনুসারে ১৩৮,০০০,০০০ এবং ২০০৯ সালের প্রাককলন অনুসারে ১৬০,৯৪৫,০০০।

ভারতে মুসলমান জনসংখ্যা সমগ্র বিশ্বের নিরিখে তৃতীয় বৃহত্তম।ভারত বিশ্বের বৃহত্তম সংখ্যালঘু-মুসলমান অধ্যুষিত রাষ্ট্রও বটে।


ভারতে ইসলামের ইতিহাস

ইসলামের ভারত বিজয়ের পূর্বেই দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছিল। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম ভাগে আরব বণিক সম্প্রদায়ের ভারতে আগমনের সূত্র ধরে ভারতবাসী ইসলাম সম্পর্কে অবহিত হন। আরব ও উপমহাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অবশ্য আরবে ইসলামের প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই বজায় ছিল। সেযুগে মালাবার অঞ্চলের বন্দরগুলিতে আরব বণিকদের প্রায়শই যাতায়াত ছিল। কারণ এই বন্দরগুলি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্দরগুলির প্রধান যোগসূত্র। ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ প্রথম মুসলমান পর্যটকরা নৌপথে ভারতীয় উপকূলভাগে অবতরণ করেন। সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগে আরব মুসলমানরা প্রথম ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন। ইসলামের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আরব জাতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক শক্তিতে পরিণত হয়। এরপর আরব বণিক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বিশ্বের সর্বত্র তাদের নতুন ধর্মপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।


৬২৯ সালে হযরত মুহাম্মদ(স) (৫৭১–৬৩২ খ্রি.) এর জীবদ্দশাতেই ভারতে প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয়। চেরামন পেরুমল নামে জনৈক ধর্মান্তরিত মুসলমানের নির্দেশে কেরলের ত্রিসূর জেলায় মালিক বিন দিনার এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। উল্লেখ্য, পেরুমলকেই প্রথম ভারতীয় মুসলমান মনে করা হয়।


মালাবারের মাপ্পিলা সম্প্রদায়ই সম্ভবত প্রথম ভারতীয় ধর্মান্তরিত মুসলমান সম্প্রদায়; কারণ এই সম্প্রদায়ই আরব বণিকদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করত। এই সময় সমগ্র উপকূল জুড়ে ব্যাপক প্রচারকার্য চালানো হয় এবং বেশ কিছু স্থানীয় অধিবাসী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এই সকল নব্য ধর্মান্তরিতেরা মাপ্পিলা সম্প্রদায়ভুক্ত হয়েছিলেন। আরব বণিকদের সঙ্গে এই সম্প্রদায়ের বৈবাহিক সম্পর্কও স্থাপিত হয়েছিল।


অষ্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন কাশিমের নেতৃত্বে আরব বাহিনী সিন্ধু (অধুনা পাকিস্তান রাষ্ট্রের সিন্ধুপ্রদেশ) জয় করে। সিন্ধু উমায়াদ খিলাফতের পূর্বতম প্রদেশে পরিণত হয়।


দশম শতাব্দীর প্রথম ভাগে গজনির মামুদ পাঞ্জাব গজনাভিদ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বর্তমান ভারত ভূখণ্ডের অন্যান্য স্থানেও অভিযান চালিয়েছিলেন। তবে দ্বাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে আরও সফলভাবে ভারতে অভিযান চালান মুহাম্মদ ঘোরি। তার অভিযানের ফলস্রুতিতে শেষ পর্যন্ত দিল্লি সুলতানির পত্তন হয়।

আরব-ভারতীয় সম্পর্ক

আরবে ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই আরবদের সঙ্গে ভারতীয়দের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীকালে ইসলামের আবির্ভাবের পরেও এই সম্পর্ক বজায় থাকে। অষ্টম শতাব্দী থেকে সংস্কৃত গ্রন্থাদি আরবি ভাষায় অনূদিত হতে শুরু করে।

No comments

Powered by Blogger.